গর্ভের শিশুর প্রতিবন্ধিতা বিভিন্ন কারণে হতে পারে—জেনেটিক, পরিবেশগত, এবং মাতৃস্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত অনেক বিষয় এই ঝুঁকির পেছনে কাজ করে। নিচে সম্ভাব্য কারণগুলো তুলে ধরা হলো:

🧬 জেনেটিক (বংশগত) কারণ:

১। ক্রোমোজোমের ত্রুটি: যেমন Down Syndrome (ট্রাইসোমি ২১), Edward Syndrome ইত্যাদি।

২। পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারের কারো মধ্যে আগে থেকেই প্রতিবন্ধিতা থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।




👩‍⚕️ মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত কারণ:

১। ফলিক অ্যাসিডের অভাব: গর্ভাবস্থার শুরুতে ফলিক অ্যাসিড না খেলে নিউরাল টিউব ডিফেক্ট (যেমন Spina Bifida) হতে পারে।

২। ডায়াবেটিস বা হাইপারটেনশন: মা যদি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন।

৩। ইনফেকশন: যেমন রুবেলা, টক্সোপ্লাজমোসিস, সাইটোমেগালোভাইরাস, HIV ইত্যাদি গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে শিশুর ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

৪। ওষুধ ও মাদক: কিছু ওষুধ (যেমন কিছু এন্টি-ডিপ্রেসেন্ট বা এন্টি-এপিলেপটিক), এলকোহল, ওষুধের অপব্যবহার।

☢️ বহিঃপরিবেশ ও অন্যান্য কারণ:

১। রেডিয়েশন: গর্ভাবস্থায় এক্স-রে বা উচ্চ মাত্রার রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসা।

২। রাসায়নিক: কীটনাশক, সীসা, পারদ ইত্যাদি ক্ষতিকর কেমিক্যালের সংস্পর্শ।

৩। পুষ্টিহীনতা: প্রোটিন, আয়রন বা অন্যান্য ভিটামিনের অভাব।

৪। বয়স: ৩৫ বছরের বেশি বয়সে গর্ভধারণ করলে কিছু জেনেটিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

👶 ভ্রূণের মধ্যে সমস্যা:

  • গর্ভকালীন সময়েই কোনো অঙ্গ সঠিকভাবে গঠন না হওয়া (Congenital malformations)।


প্রতিরোধের উপায়:

  • গর্ভধারণের আগে এবং গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ।

  • সুষম খাদ্য গ্রহণ ও ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্টেশন।

  • মাদক এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল থেকে দূরে থাকা।

  • প্রয়োজনীয় টিকা (যেমন রুবেলা) গ্রহণ করা।